রংপুর (Rangpur) নগরীর তপোধন (Topodhon) এলাকা থেকে চার শিশুকে অপহরণ করে পালানোর সময় এক নারীকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপহরণ হওয়া চার শিশুকেও উদ্ধার করেছে মহানগর পুলিশ (Metropolitan Police)।
রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার
শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে রংপুর রেলওয়ে স্টেশন (Rangpur Railway Station) থেকে চার শিশুকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে আদুরী বেগম নামের ওই নারীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কারা অপহৃত হয়েছিল?
উদ্ধার হওয়া চার শিশু হলো:
– আখিফুল ইসলামের আট বছর বয়সী মেয়ে আখি মনি
– মমিনুর ইসলামের ১২ বছর বয়সী মেয়ে মিনু
– তপোধন এলাকার মমিনুল ইসলামের চার বছর বয়সী ছেলে ইসমাই
– মকবুল হোসেনের ছয় বছর বয়সী ছেলে রিফাত
অপহরণকারীর পরিচয়
গ্রেপ্তার হওয়া আদুরী বেগম (Aduri Begum) বাবুপাড়া (Babupara) এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার স্থায়ী ঠিকানা কুড়িগ্রাম (Kurigram) জেলার উলিপুর (Ulipur) উপজেলার ফকিরচর (Fakirchar) গ্রামে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লিটন (Liton) নামের আরও একজনকে খুঁজছে পুলিশ।
অপহরণের কৌশল
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার আদুরী বেগম নিজেকে অসহায় পরিচয় দিয়ে তপোধন এলাকায় থাকার জায়গা চান। স্থানীয় আশিকুল ইসলাম (Ashikul Islam) নামে একজন তাকে আশ্রয় দেন। রাতে সেখানে থাকলেও পরদিন ইফতারের পরে চার শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
শিশুরা বাড়িতে না থাকায় এলাকাজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়। পুলিশকে তাৎক্ষণিক জানানো হলে রাতেই রেলওয়ে স্টেশনে চার শিশুসহ ওই নারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। এরপর তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশ এসে চার শিশুকে উদ্ধার করে মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
অপহৃত শিশু রিফাতের বাবা মকবুল হোসেন (Mokbul Hossain) শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে হারাগাছ থানা (Haragachh Police Station) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদুরী বেগমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আদুরী বেগমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পুলিশ তাকে নিজ হেফাজতে রেখেছে।
মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী (Metropolitan Police Commissioner Md. Majid Ali) বলেন, “অপহৃত শিশুদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।”