বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একসময় ধীরে ধীরে নিভে যাবে মহাবিশ্বের সব নক্ষত্র, থেমে যাবে নতুন তারকার জন্ম। আর এই প্রক্রিয়া হবে দীর্ঘ, ধীর এবং নীরব। একসময় আলোহীন, শীতল ও অন্ধকার মহাবিশ্বে রূপ নেবে আমাদের এই দীপ্তিমান বিশ্বজগত।
স্টেলিফেরাস যুগ: মহাবিশ্বের তারকাবহুল সময়কাল
বর্তমানে আমরা অবস্থান করছি স্টেলিফেরাস যুগে, যেখানে নিয়মিতভাবে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন নক্ষত্র। এই যুগের শুরু হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের প্রায় এক মিলিয়ন বছর পর, এবং বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি স্থায়ী হতে পারে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন বছর পর্যন্ত। কিন্তু এ উজ্জ্বলতার যুগও চিরন্তন নয়।
হাইড্রোজেন ফুরিয়ে গেলে থেমে যাবে নক্ষত্রজন্ম
মহাবিশ্বে তারকা তৈরির প্রধান উপাদান হাইড্রোজেন। গবেষকদের মতে, এই উপাদান সীমিত এবং একসময় তা নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন আর নতুন তারকার জন্ম হবে না। বৃহৎ নক্ষত্রগুলো সুপারনোভা হয়ে বিস্ফোরিত হবে এবং রূপ নেবে নিউট্রন স্টার, হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা ব্ল্যাক হোলে। ছোট নক্ষত্রগুলো ধীরে ধীরে নিভে যাবে লক্ষ কোটি বছর ধরে।
অন্ধকারের দিকে মহাবিশ্বের যাত্রা
এই ধাপে মহাবিশ্বে আলো কমে আসবে। নক্ষত্রের নিঃশেষে মহাজগৎে ছড়িয়ে থাকা আলোর উৎস বিলুপ্ত হবে। তবে, মহাবিশ্ব পুরোপুরি অচল হবে না। কিছু মৃত নক্ষত্র ও গ্রহ ধীরে ধীরে ক্ষীণ আলো বিকিরণ করবে এবং কিছু গ্রহ এখনো প্রদক্ষিণ করতে থাকবে তাদের মৃত কেন্দ্রীয় নক্ষত্রকে।
ডার্ক এনার্জির প্রভাব: প্রসারণ থামবে না
অন্যদিকে, ডার্ক এনার্জি (Dark Energy) মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ চালিয়ে যাবে। গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের থেকে এত দূরে সরে যাবে যে একসময় দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাবে নিকটতম গ্যালাক্সিগুলিও। মহাবিশ্ব হয়ে উঠবে আরও বিশাল, আরও নিঃসঙ্গ।
মহাবিশ্বের শেষ অধ্যায়: অন্ধকার ও নির্জনতা
১৩.৮ বিলিয়ন বছর বয়সী বর্তমান মহাবিশ্বের তুলনায় ভবিষ্যৎ হবে অনেক দীর্ঘ, ঠাণ্ডা ও অন্ধকারময়। একসময় আমাদের এই ‘মহাজাগতিক ভোর’-এর পরিসমাপ্তি ঘটবে। তখন মহাবিশ্ব রূপ নেবে এক নিঃসঙ্গ, আলোরহীন, শীতল ও নির্জন স্থানে—যেখানে থাকবে কেবল মৃত তারকার ধ্বংসাবশেষ ও একাকী গ্রহগুলো।