Friday , January 27 2023
Breaking News
Home / Countrywide / বাংলাদেশের একটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল হোয়াইট হাউজ

বাংলাদেশের একটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল হোয়াইট হাউজ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কয়েকটি দেশ, যার মধ্যে একটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কয়েকদিন আগে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর উপর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে তদন্ত চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এবার বাংলাদেশে একটি বড় রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভের আগে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিং”/সতার পূর্ণ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সব পক্ষকে সহিং”/সতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কার্যালয় (হোয়াইট হাউস) থেকে এ আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নৃশং”/স হাম”/লা চালানো হয়েছে। এদিকে, জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপির সমর্থকদের ওপর পুলিশ গু”/লি চালালে একজন প্রয়াত ও ৬০ জনেরও বেশি আহ”ত হয়। ভয়েস অফ আমেরিকার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শনিবার ঢাকায় বিএনপির পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশের ঘটনায় গত মাসে কয়েক হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা বলেন, এই বিক্ষোভে ১০ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে।

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তার মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি “খুব, খুব কাছ থেকে” পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ”য়ভী/’তি, হুম”/কি, হয়”/রানি ও সহিং”/সতামুক্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষো”/ভে অংশগ্রহণের অধিকার দাবি করে চলেছে।

জন কিরবি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সব পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং সহিং”/সতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। আমরা চাই তারা হয়’রা”/নি ও ভী”তি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকুক। কোনো দল বা প্রার্থী যাতে অন্য দলের বিরু”/দ্ধে হুমকি, উ”/স্কানি বা সহিং”/সতার কাজ না করে তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

এদিকে, জনগণকে সমাবেশের অধিকার দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির প্রতি ডুজারিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির মাধ্যমে জাতিসংঘের অবস্থান তুলে ধরেছি। জনগণকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের যথাযথ আইনি অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদের ওপর নৃ/শং”স হামলা – হিউম্যান রাইটস ওয়াচ:
নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে শেখ হাসিনা কখনোই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াননি। ৮০ এর দশকে সাম”/রিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার জে’ল খেটেছিলেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচন হয় এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। কিন্তু ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তার সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভয়ভী”তি ও কা”রচুপির অভিযোগ রয়েছে। আসন্ন ২০২৪ সালের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে শেখ হাসিনা ও তার বিরোধী দল বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি নস্যাৎ করতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। বৃহস্পতিবার দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, যে হাত আমাদের আঘা’ত করতে আসবে, তা ভেঙে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ১০ ডিসেম্বর থেকে আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ঢাকায় বিরোধী দলের (বিএনপি) সমাবেশে নৃ”শং/’সভাবে হাম”/লা চালিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, রাজপথে কোনো ধরনের জমায়েত সরকার বরদাস্ত করবে না। সংঘ”/র্ষ দমনের আড়ালে, পুলিশ শহরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে, শহরের প্রবেশপথে চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে এবং বাস ও প্রাইভেটকারদের ত”ল্লাশি করছে। কিন্তু পুলিশ বিরোধী দলের সমর্থকদের ভ’য় দেখানোর জন্য এটা করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭ ডিসেম্বর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যে সং”/ঘর্ষ হয়। এতে একজন প্রয়াত ও ৫০ জন আহ”/ত হয়। বিএনপি সদর দফতরে অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকে গ্রেফ”/তার করা হয়। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দেশে বর্তমান সময়ে বিরাজমান যে ভী”তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির হয়েছে তার জন্য দায়ী হিসেবে সরকারকে অভিযুক্ত করেন। এর একদিন পর মির্জা ফখরুল এবং সেইসাথে দলের একজন শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাসকে আটক করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হাম”/লাসহ নানা ধরনের উ”/স্কানি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বিএনপির সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে গনমাধ্যমের তরফ থেকে বলা হয়েছে।

About bisso Jit

Check Also

সারা দেশের ডিসিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ, জানা গেল কারণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এমন যেখানে এক দল অন্য দলের সমালোচনায় মত্ত রয়েছে। নানা সময় অন্যদলের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *