Friday , January 27 2023
Breaking News
Home / opinion / আবদুন নূর তুষার- এর এই লেখা পড়ে আমি কেঁদেছি,সবার পড়া উচিত:আসিফ নজরুল

আবদুন নূর তুষার- এর এই লেখা পড়ে আমি কেঁদেছি,সবার পড়া উচিত:আসিফ নজরুল

বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে যে কয় জন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন আব্দুন নূর তুষার। দেশের সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে লেখা লেখি করে থাকেন তিনি। সম্প্রতি তিনি একটি লেখনী লিখেছেন যে লেখনী মন ছুঁয়েছে সবার। আর সেই লেখনী পড়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আসিফ নজরুল। তিনি এ নিয়ে দিয়েছেন একটি স্ট্যাটাস। পাঠকদের উদ্দেশে তার সেই লেখনী তুলে ধরা হলো হুবহু:-

আবদুন নূর তুষার- এর এই লেখা পড়ে কেঁদেছি

আমার পুত্রের কাবা শরীফের প্রতি একধরনের অমোচনীয় আগ্রহ আছে। সে অনেক ছোটবেলা থেকেই সেখানে যেতে চায়। তাকে কথা দেয়া ছিলো যে একসময় তাকে মক্কাহ ও মদিনায় নিয়ে যাওয়া হবে।

সে গত দশ বছর এরও বেশি সময় রোজ জানতে চাইতো সে কবে কাবাঘরে যাবে।

যেহেতু সে একজন বিশেষ শিশু তাকে এতদুর নিয়ে যাওয়ার জন‍্য ও সে যাতে পবিত্র স্থানে আদবের সাথে ভ্রমন সম্পন্ন করতে পারে সেজন‍্য তাকে প্রস্তুত করতে হয়েছে।

একসময় সে উড়োজাহাজ ও শব্দকে তীব্র ভয় পেতো। তাকে নিয়ে বহুবার উড়োজাহাজ এ উঠে এই ভয় মোচন করতে হয়েছে।
উড়োজাহাজের প্রসাধন ও প্রক্ষালনকক্ষে বিকট শব্দে ফ্লাশ হয়। ইমিগ্রেশনের ছবি ও আঙুলের ছাপ লাগে। এরকম বহু কিছুতে তাকে অভ‍্যস্ত করিয়ে নিতে হয়েছে।

আমার পুত্র কোরআন শরীফের একটি বড় অংশ মুখস্থ করেছে। এসবই মহান স্রষ্টার করুণা।

আমি এর আগে মোট এগারোবার উমরাহ সম্পন্ন করেছি। সবই বয়স ছত্রিশ হবার আগে। এরপর দীর্ঘদিন আমি সেখানে যাই নাই কারণ আমি আমার পুত্রের সাথে সেখানে যাবো বলে মনস্থ করেছিলাম।

এরমাঝে আমি বেশ কয়েকবার সৌদি আরবে প্রভাবশালি কিছু নিকটজনকে আমার পুত্রের উমরাহকে সহজ করার জন‍্য সেখানে অবস্থানরত কোন সাহায‍্যকারি দিয়ে সহায়তা চাইলে তারা সযতনে সেটা এড়িয়ে যান। সেই সময় আমার পুত্র খুব ছটফটে স্বভাবের ছিলো। তাকে দেখে রাখতে আলাদা লোক লাগতো। সে এখন অনেক শান্ত হওয়ায় ভ্রমন সহজতর হয়েছে।

আল্লাহ সেইসব নিকটজনকে চিনতে সাহায‍্য করেছেন।

এখন কাবাঘরে প্রবেশের জন‍্য অবশ‍্যই ইহরামের পোশাক পরতে হয়। তাছাড়া মহানবীর রওজা মুবারক জিয়ারাত ও রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের জন‍্য মোবাইল অ‍্যাপের মাধ‍্যমে নির্ধারিত সময়ে যেতে হয়।

আমার ছেলে জায়নামাজ ছাড়া শক্ত মার্বেলে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অস্বস্তি অনুভব করে। কখনো কখনো ভীড় এর কারণে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারলে বাইরে দাঁড়াতে হতো। তাই সাথে তার জন‍্য একটি জায়নামাজ নিতে হতো। একটিবার ভুলে সেটি না নেয়ায় আমি যখন ভাবছি কি করবো; কোন এক অপরিচিত আরব কিশোর এসে তার নিজের জায়নামাজটি আমার পুত্রর জন‍্য বিছিয়ে দিয়ে তার পাশে দাড়িয়ে গেলো। কিভাবে এটা হলো আমি জানি না। এমন নয় যে আমি কাউকে বলেছি বা জায়নামাজ খুঁজেছি।

আমার ছেলে আমাকে স‍্যার বলে আদর করে। আমিও স‍্যার বলি তাকে। সে একাই হেঁটে কিভাবে যেনো তাওয়াফের সময় কাবাঘরের গিলাফ ছুঁয়ে কোরানের আয়াত বলে দোয়া করেছে। তাকে এই ভীড়ে ধাক্কাধাক্কি করা আফ্রিকান ও ভারত পাকিস্তানের লোকজন নিজেরাই সরে গিয়ে পথ করে দিয়েছে। বলতে হয় নাই কাউকে। আমরা একসাথে সব ঐতিহাসিক পবিত্র স্থানে দু রাকাত নামাজ পড়েছি। সে প্রতিবার নামাজ এর আগে ও পরে জমজমের পানি পান করার কথা ভুলে গেলেই মনে করিয়ে দিয়েছে। আমরা কাবাঘরের সীমানাতে একবেলা ঘুমিয়েও থেকেছি জোহর ও আসরের মধ‍্যবর্তি সময়ে।

রাসুল সা. আ. এর রওজা মুবারকে প্রবেশের নির্ধারিত সময়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর পর আমি যখন ভাবছি অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, ঠিক তখনি বহুদুর থেকে শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা দুজন সৌদি নাগরিক এগিয়ে এসে আমার পুত্র ও আমাকে আলাদা করে নিয়ে গেলেন ও সময় হবার সাথে সাথে আলাদা দরোজা দিয়ে সরাসরি রিয়াজুল জান্নাতে নিয়ে প্রথম সারীতে দাঁড়াতে দিলেন।

আমি কাউকে কোনো অনুরোধ করি নাই কিন্তু যখন আমার পুত্রের হাত ধরে উঁচু দরোজা পার হয়ে সেখানে যাচ্ছি তখন আমার মনে হলো এভাবেই হয়তো আমার পুত্রের হাতটি আল্লাহ আমার জন‍্য নির্দিষ্ট করেছেন যে হাত ধরে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষ পরকালেও বিচারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো।

আমার মনে হলো রওজা মুবারকের পাশে রিয়াজুল জান্নাতের অংশটুকু এই পাপে পূর্ণ পৃথিবীতে বেহেশতেরই বাগান; প্রকৃতই শান্তির এক টুকরো জমি। আমি এর আগেও সেখানে গেছি। অনেকবার। কিন্তু এই তীব্র মানসিক অনুভূতি উপলব্ধি করি নাই।

পিতা ও পুত্রের জীবনে সেই আধাঘন্টা ইবাদতের সময়টুকু আমাকে মৃত‍্যুর পরবর্তী জীবনের জন‍্য কিছুটা সঞ্চয় করিয়েছে। ২০০৪ সালে ঠিক যেখানে দাঁড়িয়ে আমি আমার পুত্র ও কন‍্যার জন‍্য একা হাত তুলেছিলাম ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে এবার আমি স্রষ্টাকে কৃতজ্ঞতা জানালাম। তিনি না চাইলে আমরা কখনোই একসাথে সেখানে যেতে পারতাম না।

আমি পূণ‍্যবান নই। আমি কেবল কখনো হারাম বস্তু স্পর্শ করি না। সাধ‍্য অনুযায়ী ইবাদত করি। আমার কাছে উপাসনা স্রষ্টার ক্ষমা ও নৈকট‍্য লাভ ও স্রষ্টার প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশের উপায়। আমি আল্লাহর সাধারণ পাপী বান্দা।

আল্লাহ আমার হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার জন‍্য নিষ্পাপ কোমল বিশেষ এক শিশু, আমার পুত্রকে আমার ঘরে পাঠিয়েছেন। এজন‍্য তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানালাম।

আমার চোখে পানি দেখে আমার ছেলে সেটা মুছিয়ে দিয়ে জানতে চাইলো বাবা; ব‍্যাথা? বাবা কোথায় ব‍্যাথা!

আমি তাকে বলতে পারি নাই এই অশ্রু তার হাত ধরতে পারায় আনন্দের অশ্রু। আমি এতো সাধারণ হয়েও অসাধারণ হয়েছি তার হাত ধরতে পারায়।

আমরা বুঝি না। অধৈর্য হই। সৃষ্টিকর্তা রহস‍‍্যময়। তিনি এক অনির্বচনীয় উপায়ে তার করুণাধারায় আমাদের নিমজ্জিত করেন। বিশ্বাসীদের অন্তরকে তিনি তার নিদর্শন উপলব্ধি করার জন‍্য খুলে দেন।

আমি প্রার্থনা করলাম কোরআনের সেই আয়াতগুলি স্মরন করে যেখানে তিনি অবিশ্বাসীদের হৃদয় সীলমোহর করার কথা বলেছেন। সম্মান ও সম্পদ যে তিনি ইচ্ছামতো দেন ; যাকে ইচ্ছা দেন অথবা নিয়ে নেন সেই কথা বলেছেন।

আমি ও আমার পুত্র যখন প্রার্থনা শেষে ফিরছি ; সেই পুরো পথ সে আমাকে হাত ধরে নিয়ে এলো। আমরা কোনো কথা বলি নাই।
কিন্তু আমাদের হৃদয় কি বলছিলো সেটা আমরা দুজন ছাড়া কেবল স্রষ্টাই জানেন।

(this post is written by Abdun Noor Tushar. I was so touched that I thought everyone should read it.)

প্রসঙ্গত, অদবুন নূর তুষার পেশায় একজন ডাক্তার। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বেশ অবদান রেখে যাচ্ছেন। বিশেষ করে দেশের কঠিন সময়ে তিনি দিয়েছেন অনেক পরামর্শ। এ ছাড়াও তার লেখনী পাঠক মহলে বেশ জনপ্রিয় হয়ে আছে বর্তমানে।

About Rasel Khalifa

Check Also

মৃত গরীবদেরতো জায়গাই থাকবে না শহরের ভেতরে: আব্দুন নুর তুষার

বাংলাদেশের অবস্থা কতটা পাল্টেছে সেটা বিজ্ঞ জনেরা বেশ ভালো করেই জানেন। ধনীক শ্রেনীর মানুষেরা এখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *