Saturday , January 28 2023
Breaking News
Home / Exclusive / বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে কী ঘটেছে, আমেরিকার সরকারকে ব্যাখ্যা দিলেন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে কী ঘটেছে, আমেরিকার সরকারকে ব্যাখ্যা দিলেন রাষ্ট্রদূত

পিটার ডি হাস যিনি ঢাকায মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন তিনি সম্প্রতি রাজধানীর শাহীনবাগের একজন গুম হওয়া বিএনপি নেতার বাসায় যান। এরপর সেখানে একটি ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর যুক্তরাস্ট্র সরকার ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে ডাকেন এবং বাংলাদেশে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বলে জানা যায়। অবশ্য বাংলাদেশে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে তলব বলতে চায় না। তাদের দাবি এটি নিয়মিত বৈঠক। ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার শাহিনবাগের ঘটনার পর ঢাকায় কী ঘটেছিল তা জানতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানকে ফোন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার বাংলাদেশে বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

গত বুধবার ঢাকার শাহীনবাগে বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় যান পিটার হাস। সুমনের বোন ‘মায়ের ডাক’ নামের একটি সংগঠন করেছেন। নিখোঁজ স্বজনদের নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে সরকারের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে এই সংগঠনটি।

পিটার হাস সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পর কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো পক্ষই কিছু জানায়নি। কিন্তু তিনি কীভাবে সেখানে গেলেন তা গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সুমনের বাসায় যাওয়ার পর ‘মায়ের কান্না’ নামের আরেকটি সংগঠনের সদস্যরা সেখানে যান। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সে”না ও বিমানবাহিনীতে গণহ”/ত্যায় প্রয়াতদের স্বজনরা মিলে এই সংগঠনটি গড়ে তোলেন। তারা জিয়াউর রহমানের ম”রণোত্তর বিচার ও স্বজনদের প্রতি অবিচারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

এ সংগঠনের সদস্যরা পিটার হাসকে স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ৪৫ বছর আগের গুমের ঘটনা আন্তর্জাতিক তদন্ত চাওয়ার পাশাপাশি সামরিক শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

কিন্তু মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রটোকল অফিসাররা তাদের কাছে যেতে দেননি। তারা দ্রুত হাসের সাথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এরপর সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মোমেন তখন তাকে জিজ্ঞেস করেন, কোনো হা”/মলা হয়েছে কি না। ‘না’ উত্তর পাওয়ার পর তিনি নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তবে কোনো সংগঠনের কর্মসূচি তারা বন্ধ করতে পারবে না বলে জানান তিনি।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সেদিন পিটার ডি হাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক সংগঠন, সুশীল সমাজও মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দেখানোর অভিযোগ তুলে বিবৃতি দিয়েছে।

অন্যদিকে পিটার হাসের পক্ষে রয়েছে বিএনপি। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটবে বলে মনে করছেন তারা। দলটি আরও বলছে, সরকার এখন বিদেশীদেরও ভ”/য় দেখাচ্ছে।

তবে মার্কিন সরকার এ ঘটনায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ঘটনার পরদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী সচিব ডোনাল্ড লু ওয়াশিংটনে ঢাকার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন। ওই বৈঠকে দেশটির কর্মকর্তা পিটার হাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ওই বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তা ডোনাল্ড লুককে ঢাকার অবস্থান ও সেদিনের ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, পিটার হাস চাইলে ঢাকায় তাকে আরও নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ডেশের একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “এটি একটি নিয়মিত বৈঠক। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) তলব করেনি। আমাদের রাষ্ট্রদূত আগে থেকেই সেখানে আলোচনার চেষ্টা করছেন। তারপর তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছেন।আমরা অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছি তাদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য। এটি নিয়মিত বৈঠক।’

যাইহোক, একটি নিয়ম মোতাবেক, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইট সাধারণত সমস্ত পুনঃনির্ধারিত মিটিংয়ের জন্য দৈনিক মিটিং এবং এজেন্ডা তালিকাভুক্ত করে। ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক তাদের এজেন্ডায় নেই।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের ঘটনায় কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগ নেই এবং এ ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ ঘটনায় নিরাপত্তার কোনো উদ্বেগ নেই। এ ঘটনার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ এবং যুক্তরাস্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক বহু বছরের পুরনো। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রায় ৫০ বছর ধরে চলছে। তাই এই ধরনের সামান্য কোনো ঘটনা বা এ ধরনের কোনো ঠুনকো আচরণ সেই বিদ্যমান সুসম্পর্ককে কোনোভাবে নষ্ট করতে পারবে, বিষয়টি কোনো ভাবে এমন নয়। সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে এমন কিছু আমরা দেখছি না।

About bisso Jit

Check Also

আমারে মারে, চুলে ধইরা টানে, আমি মইরা যাইমু গো আম্মা: সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মী

প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কর্মী বিদেশে গিয়ে থাকেন ভাগ্য বদলের আশায়। যেসব দেশে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *