Friday , January 27 2023
Breaking News
Home / Countrywide / আ.লীগের সভাপতি থাকছেন হাসিনা, কাদেরের বিষয়ে হচ্ছে যে সিদ্ধান্ত, নতুন আসছেন কারা

আ.লীগের সভাপতি থাকছেন হাসিনা, কাদেরের বিষয়ে হচ্ছে যে সিদ্ধান্ত, নতুন আসছেন কারা

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পর পর টানা তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। দলটি উপমহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি রাজনৈতিক দল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে চলেছেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর আ.লীগের ২২ তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কমিটিতে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে। এবারও ৮১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। এতে কিছু নতুন মুখ থাকতে পারে। তবে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে শেখ হাসিনার বিকল্প এখনো প্রস্তুত হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকটা নিশ্চিত। তবে এই তালিকায় আরও রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. আবদুর রাজ্জাক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও ড. হাছান মাহমুদ।

তবে আওয়ামী লীগে এবার প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সদস্য পদে চমক আসতে পারে বলে জানা গেছে। দলটির নেতারা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের পর দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতির জায়গা রয়েছে জাতীয় চার নেতার পরিবারে। এসব আবেগ-অনুভূতি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যরা এই কমিটিতে স্থান পেতে পারেন। ত্যাগী নেতারা ছাড়াও তৃণমূলের অনেক মুখ থাকতে পারেন কমিটিতে।

সূত্র বলছে, প্রেসিডিয়াম থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকে এবার উপদেষ্টা পরিষদে আনা হতে পারে। ওই শূন্যপদে বর্তমান যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে অন্তত দুজনকে প্রেসিডিয়ামে নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী রেজাউল করিমকে যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আনার পরিকল্পনা চলছে। পার্টি ইতিমধ্যেই দলীয় হাইকমান্ড থেকে এই তালিকার দুই নেতাকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই চার নেতার কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান কমিটি থেকে বেশ কয়েকজনকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বাদ পড়া নেতাদের পরবর্তীতে বিভিন্ন আসনে বা কমিটিতে মনোনীত করা হতে পারে। আর তাদের জায়গায় সাবেক ছাত্রনেতা, কঠিন সময়ে অবদান রাখা কয়েকজন তৃণমূল নেতা এবং সংখ্যালঘু কোটায় অনেকেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে পারেন।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসার তালিকায় রয়েছেন বলরাদ পোদ্দার, খলিলুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা এইচএম মাসুদ দুলাল, মনিরুজ্জামান মনির, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি যথাক্রমে শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহম্মেদ মন্নাফী।

অন্যদিকে জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্য হিসেবে খায়রুজ্জামান লিটন ইতোমধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ পেয়েছেন। তাকে পুনর্বাসন করা হতে পারে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমিকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে রাখা হতে পারে।

এ ছাড়া মোহাম্মদ নাসিমের প্রয়ানের পর শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পরিবারের কেউ দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেই। এ পরিবার থেকে প্রয়াত ড. মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে শেহেরনি সেলিম রিপন অথবা তানভীর শাকিল জয়কে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা হতে পারে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রয়ানের পর কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পরিবার। ওই পরিবার থেকে ড. জাকিয়া নূর লিপিকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে দেশি-বিদেশি ষড়য”/ন্ত্র মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফলে অনেক চিন্তাভাবনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্ধারণ করতে হচ্ছে। বিগত দিনে বঙ্গবন্ধুকন্যার নির্দেশে যারা সংকটে উত্তীর্ণ হয়েছেন বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন তারা অগ্রাধিকার পাবেন তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গণমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের নেত্রী হিসেবে অপরিহার্য। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তরুণ ও নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে আসার সুযোগ দেবে। যাতে ভবিষ্যতে নবীন-প্রবীণদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সংগঠন তৈরি হয়। অতীত এবং বর্তমান কর্মকাণ্ড, নীতি-নৈতিকতা, সততা ও সাহস দেখে যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বের জন্য আনা হবে।

এদিকে আ.লীগের কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দই গ্রহণযোগ্য হবে বলে বলে জানিয়েছেন বর্তমান কমিটির কয়েকজন সদস্য। এদিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত গ্রহনে কোনো রকম ভুল করবেন না। তিনি দলের প্রতি ত্যাগী নেতাদের সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন, এবারও তার হেরফের হবে না। তিনি নেতৃত্বে যোগ্য ব্যক্তিকেই প্রাধান্য দিবেন।

About bisso Jit

Check Also

সারা দেশের ডিসিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ, জানা গেল কারণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এমন যেখানে এক দল অন্য দলের সমালোচনায় মত্ত রয়েছে। নানা সময় অন্যদলের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *